নিজস্ব সংবাদদাতা: আকাশ আট-এ বরাবরই সাহিত্য কিংবা ঐতিহাসিক চরিত্রদের নিয়ে ধারাবাহিক দেখা যায়। এই চ্যানেলের মূল বৈশিষ্ট্য সেটিই। এবার আরও একবার এক ঐতিহাসিক চরিত্রকে দর্শকের সামনে তুলে ধরতে চলেছে আকাশ আট। আসছে 'খনার কাহিনী'।
'খনা'র ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করবে ঋষিতা নন্দী। তাকে দর্শক দেখেছিলেন জি বাংলার ধারাবাহিক 'আলোর কোলে'র 'পুপুল'-এর চরিত্রে। আবারও ধারাবাহিকে ফিরছে ছোট্ট ঋষিতা। বয়স অল্প হলে কী হবে, অভিনয় দক্ষতায় দর্শকের মন জয় করেছে সে। গল্পে দেখানো হবে খনার জীবন কাহিনি। কথিত আছে ৮০০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে তাঁর আবির্ভাব হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এক শুভক্ষণে জন্ম বলেই নাকি তাঁর নাম খনা।
খনা ছিলেন জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বিদুষী নারী। যিনি তাঁর বচনের জন্য সমাদৃত। তাঁর আসল নাম নাকি লীলাবতী। খনার ভবিষ্যতবাণীগুলি 'খনার বচন' নামে পরিচিত। কথিত আছে, খনা বা লীলাবতী ছিলেন সিংহলরাজের কন্যা।
বরাহমিহির বা বররুচির পুত্র মিহির ছিলেন খনার স্বামী। খনা এবং মিহির দুজনেই জ্যোতিষশাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন। মিহির একসময় বিক্রমাদিত্যের সভাসদ হন। একদিন মিহির আকাশের তারা গণনায় সমস্যায় পড়েন। খনা সেই সমস্যার সমাধান দিয়ে দেন। তা রাজা বিক্রমাদিত্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গণনা করে খনার দেওয়া পূর্বাভাসে রাজ্যের কৃষকরা উপকৃত হতেন বলে রাজা বিক্রমাদিত্য খনাকে তাঁর সভার 'দশমরত্ন' আখ্যা দেন। কিন্তু শ্বশুর বরাহ তাঁর বউমার এই প্রতিপত্তি মোটেই ভালভাবে নিলেন না। রাজসভায় প্রতিপত্তি হারানোর ভয়ে প্রতিহিংসা জাগলো তাঁর মনে। তিনি পুত্র মিহিরকে আদেশ দিলে মিহির তাঁর স্ত্রী লীলাবতীর জিহ্বা কেটে দেন। এর কিছুকাল পরে খনার মৃত্যুও ঘটে।
খনা যা ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছেন, তার অধিকাংশই মিলে যায় বলে বিশ্বাস অনেকের। বাঙালির লোকসংস্কৃতিতে খনার বচনের বিশেষ জায়গা রয়েছে। খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া। এবার তাঁর কাহিনিই ফুটে উঠবে আকাশ আট-এর ধারাবাহিকে।
















